সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কুতুবপুর ভূমি অফিসে সাংবাদিককে বাধা, মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া ও ২৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ। সোনারগাঁয়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ডাঃ রাসেল আহমেদ ভূঁইয়ার উদ্যোগ কৃষকের পাশে কৃষি অফিসারক কৃষিবিদ মোঃ রাসেল মিয়া: আধুনিক কৃষিতে বদলে যাচ্ছে আড়াইহাজারের কৃষিচিত্র। চৌড়াপাড়া ব্রিজের ভাঙা রাস্তা মেরামতে এগিয়ে এলো আন-নাজাত ফাউন্ডেশন। মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধে যুবদল নেতা ও রোকন গংয়ের সংঘর্ষ, কুপিয়ে জখম ১। শিক্ষার্থীদের সরকারি সেবার তথ্য জানাতে নারায়ণগঞ্জ সদরে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। যাত্রাবাড়ী থানা হেফাজত থেকে পালিয়েছে হত্যা মামলার রিমান্ডের আসামি। সোনারগাঁও থানার নতুন ওসি আব্দুল বারিক অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তায় কঠোর পদক্ষেপের প্রত্যাশা। খাজা মাইন উদ্দিনের সমর্থনে বিশনন্দীতে বিশাল জনসমাগম ‘মনোনয়ন পেলে বিজয়ের মালা পরিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে পাঠাবেন’—অঙ্গীকার নেতাকর্মীদের। রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন সভাপতি খলিল শিকদার, সাধারণ সম্পাদক আলম হোসেন; ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ।

জনবল সংকটে ব্যাহত ভূমি সেবা: দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে জনবল বৃদ্ধির দাবি।

Coder Boss
  • Update Time : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৪ Time View

আমাদের স্বাধীন দেশ 

বন্দর, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
ভূমি সেবাকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করতে সরকার ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম চালু করলেও প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে কাঙ্ক্ষিত গতিতে সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে একটি ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও একজন অফিস সহায়ক দিয়ে কোনো কোনো ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিচালনা করতে গিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মদনগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোঃ আজিম উদ্দিন বলেন, তিনি ১৯৯৬ সালে সহকারী তহশিলদার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। সে সময় প্রতিটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একজন তহশিলদার, একজন সহকারি তহশিলদার এবং দুজন পিয়নসহ তুলনামূলকভাবে পর্যাপ্ত জনবল ছিল। ফলে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় ভূমিসেবা দেওয়া সহজ হতো।
তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো কোনো ভূমি অফিসে একজন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও একজন অফিস সহায়ক দিয়েই অফিসের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে অফিসের দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি নাগরিকদের বিভিন্ন সেবা দিতে গিয়ে সময়ের চাপ তৈরি হচ্ছে।
আজিম উদ্দিন আরও বলেন, বর্তমান সরকার ভূমিসেবাকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করেছে। ই-নামজারি ব্যবস্থায় আবেদন অনলাইনে গ্রহণ থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তদন্ত প্রতিবেদন, প্রস্তাবপত্র ও খসড়া খতিয়ান প্রস্তুত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ই-মিউটেশন ব্যবস্থা বর্তমানে দেশের ৬১ জেলার উপজেলা ভূমি অফিসগুলোতে চালু রয়েছে এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তদন্ত এ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।
কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে একই সঙ্গে নামজারি তদন্ত, বিবিধ মামলা (মিস কেস) সংক্রান্ত তদন্ত, ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রস্তুত, মাঠপর্যায়ের কাজ এবং ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের কার্যক্রম তদারকি করতে হয়। ফলে একই সময়ে অফিসে উপস্থিত নাগরিকদের সেবা দেওয়া এবং মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালন করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনাও বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় এসেছে। নাগরিকরা অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে পারছেন এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমেও এ সেবা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
তবে মাঠপর্যায়ে এসব ডিজিটাল সেবা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হলেও আবেদন যাচাই, মাঠপর্যায়ে তদন্ত, নাগরিকের তথ্য যাচাই, প্রতিবেদন তৈরি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজের জন্য দক্ষ জনবল প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়ালেই ভূমিসেবা পুরোপুরি গতিশীল হবে না; একই সঙ্গে ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল বাড়াতে হবে। এতে একদিকে কর্মকর্তাদের ওপর কাজের চাপ কমবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন।
মোঃ আজিম উদ্দিন বলেন, “জনগণকে দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম থাকলে একই কর্মকর্তা যখন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি করা হলে ডিজিটাল ভূমিসেবার সুফল জনগণ আরও দ্রুত পাবেন।”
ভূমি সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোর বাস্তব কর্মপরিধি ও জনসংখ্যার বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ভূমিসেবার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সমন্বয় ঘটানো গেলে ভূমি অফিসের সেবার মান আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের বর্তমান ডিজিটাল উদ্যোগের লক্ষ্যই হলো ভূমিসেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুত করা। তাই প্রযুক্তির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা গেলে সরকারের ডিজিটাল ভূমিসেবা কার্যক্রম আরও কার্যকর ও জনবান্ধব হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2027 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!