বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
অসহায় বিমান ক্রুদের সঙ্গে ডিসিএস লিটনের স্বেচ্ছ্বাচারিতা।

অসহায় বিমান ক্রুদের সঙ্গে ডিসিএস লিটনের স্বেচ্ছ্বাচারিতা।

admin

আমাদের স্বাধীন দেশ 

আজাদ হোসেন :
দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ বিমানে ফ্লাইট সার্ভিস ডিপার্টমেন্টে অনিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম চলছে। উচ্চ পদস্থদের রোষানলে পড়ে অনেক কেবিন ক্রু আজ দিশেহারা। মূলত কর্মকর্তাদের অঙ্গুলি হেলনের মাধ্যমে নিরপরাধ অনেককেই দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে। আবার দোষ না করেও বছরের পর বছর ধরে নিষ্পেষিত হচ্ছেন অনেক কেবিন ক্রুই। এমনটি একটি ঘটনা ঘটেছে বিমান বাংলাদেশের চার কেবিন ক্রুর ক্যারিয়ারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ বিমানের ওই চার কেবিন ক্রু অভিযোগ করেন, বিমানের কেন্দ্রিয় প্রশাসনের আদেশে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়ে চাকরিতে পুনর্বহাল হলেও প্রায় ১১ মাস ধরে তাদেরকে শুধু শাটল ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বা আউট স্টেশন ফ্লাইটে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি তাদের।
অভিযোগকারী ওই কেবিন ক্রুরা জানান, কেন্দ্রিয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করে তাদেরকে চাকরিতে পুনর্বহাল করে। তারা বলেন, কেন্দ্রীয় প্রশাসন (সেন্ট্রাল অ্যাডমিন) থেকেও তাদেরকে আউট স্টেশন ফ্লাইটে দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই বলে জানানো হয়। বর্তমান ডিসিএস বদরুল হাসান লিটনের কাছে ওই কেবিন ক্রুরা আবেদন করেন একাধিকবার।
তাদের আবেদন দুইবার গ্রহন করলেও সেন্ট্রাল এডমিনকে সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা করছেন না বদরুল আলম লিটন। জিএম মহিউদ্দিন আহমেদ ও ফ্লাইট সার্ভিসেস ম্যানেজার সিপি শাহনাজ বেগমের তত্বাবধানে থাকা লিটন ওই আদেশ মানছেন না। শুধু তাই নয়, অভিযোগকারী ওই কেবিন ক্রুদের আবেনদও হাপিস করে দেন তারা।
কেবিন ক্রুদের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী সেন্ট্রাল অ্যাডমিনের ছাড়পত্রের পর স্বাভাবিক দায়িত্বে ফেরার কথা থাকলেও বর্তমান পরিচালক (কাস্টমার সার্ভিস) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে শুধু শাটল ফ্লাইটে দায়িত্ব দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আবেদন করলেও তা কার্যকর হয়নি। মূলত ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি গোলাম দস্তগীর ও বর্তমানে ফ্লাইট সার্ভিসেস ম্যানেজার সিপি শাহনাজ বেগম এমন হয়রানী করছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, আমাদের আবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়ার পরও তা নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে পুনরায় আবেদন করলেও ফ্লাইট সার্ভিসেসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা তাদের আরও অপেক্ষা করতে বলেন। এতে তারা মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তারা। ভুক্তভোগী ওই কেবিন ক্রুরা আরও জানান, ম্যানেজার শাহনাজ বেগমের অবসর আগামী বছর। কিন্তু ৫৯ বছর বয়সে এসে সার্টিফিকেট এফিডেভিট করে চাকরির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছেন তিনি। তার নামে ৫ আগষ্টের একটি মামলাও রয়েছে। অথচ এরপরও কাস্টমার সার্ভিসের ম্যানেজার হিসাবে কাজ করে যাচ্ছেন শাহনাজ।
বিশ^স্ত সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ক্লিয়ারেন্সের পরও ভুক্তভোগীদের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্বে ফিরতে না দেওয়া চাকরির বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

Developed by : BDIX ROOT