শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, অতিষ্ঠ পরিবহন মালিক-শ্রমিক।

শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, অতিষ্ঠ পরিবহন মালিক-শ্রমিক।

admin

আমাদের স্বাধীন দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:এ আর হানিফ

শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ টিআই জুলহাসসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় পরিবহন মালিক ও চালকরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অজুহাতে লেগুনা, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন আটকিয়ে মামলা ও ডাম্পিংয়ের ভয় দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

পরিবহন মালিক ও চালকরা অভিযোগ করেন, টিআই জুলহাসের পাশাপাশি সার্জেন্ট খোরশেদ, এসআই আল আমিন ও এএসআই তারিকুল নিয়মিত সড়কে যানবাহন থামিয়ে কাগজপত্রের ত্রুটি দেখিয়ে চালকদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ডাম্পিং, মামলা কিংবা হয়রানির হুমকি দেওয়া হয় এমনকি মারধরও করে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, নিজেদের মনগড়া নির্ধারিত ডাম্পিং ফি ২০০০ টাকার সাথে জ্বালানি বাবদ ৫০০ টাকা পরিশোধের পরেও অতিরিক্ত ৩০০ টাকা নেওয়া হয় যার কোন রিসিপ্ট দেওয়া হয় না। সিএনজি লেগুনা ও অটোচালকেরা বলেন প্রায়ই মাঝে মধ্যে রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে নগদ ২০০০ টাকা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যেতে বলে যার কোন মেমো দেওয়া হয় না বলে এটা আমাদের অফিস খরচ ।

এছাড়া প্রতিদিন সড়কে চলাচলকারী সিএনজি লেগুনা ও অটোরিকশার চালকদের কাছ থেকে কথিত “দৈনিক মাসোহারা” আদায় করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা আরও বলেন আমাদের নির্দিষ্ট গাড়ি পার্কিং এর জায়গা না থাকায় বিভিন্ন মোড়ে ও সিএনজি লেগুনা এবং অটো রাখার জন্য প্রতিদিন একটি হাইওয়ে পুলিশ তাদের সোর্স এর মাধ্যমে চাঁদা উঠায় । আর এই সব কিছুর মুলে রয়েছে টিআই জুলহাসের কালো থাবা

বিভিন্ন লোকাল ও দূরপাল্লার বাস কোম্পানির লাইন ম্যানরা অভিযোগ করেন টিআই জুলহাস দীর্ঘদিন যাবত এই শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ হিসাবে রয়েছে যার ফলে সে একটি সোর্স ও সিন্ডিকেট সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে আর এই সোর্স ও দালালদের মাধ্যমে সে বিভিন্ন গাড়ির চালকদের মামলা ও ডাম্পিং এর ভয় দেখিয়ে হয়রানি করে থাকে ।
বিভিন্ন বাস কোম্পানির কাছ থেকে প্রতি মাসে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার বিনিময়ে ফিটনেসবিহীন ও ত্রুটিপূর্ণ বাস চলাচলে সহযোগিতা করে থাকে এই টিআই জুলহাস। এতে একদিকে যেমন সড়ক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে বৈধ ভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী পরিবহন মালিক ও চালকরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা বলেন, “আমরা আইন মেনে চলতে চাই। কিন্তু অযৌক্তিক অর্থ দাবি ও হয়রানির কারণে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
তারা বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Developed by : BDIX ROOT