বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
সোনারগাঁয়ে ভূমি কর্মচারীকে ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ: দালালচক্রের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ক্ষোভ, আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি।

সোনারগাঁয়ে ভূমি কর্মচারীকে ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ: দালালচক্রের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ক্ষোভ, আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি।

admin

আমাদের স্বাধীন দেশ 

স্টাফ রিপোর্টার | সোনারগাঁ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর রাজস্ব সার্কেলের মিউটেশন কাম-সার্টিফিকেট সহকারী মোঃ ইমরান হাসানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, সেবাগ্রহীতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি, অবৈধ সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও দালালচক্র ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাঁচপুর রাজস্ব সার্কেলে যোগদানের পর থেকেই ইমরান হাসান ভূমি-সংক্রান্ত সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেন। অনিয়ম, দালাল নির্ভরতা এবং অবৈধ তদবির নিরুৎসাহিত করায় দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাভোগী একটি চক্র ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সেবাগ্রহীতা মামুন বলেন, “ইমরান হাসান অত্যন্ত আন্তরিক ও বিনয়ী একজন কর্মকর্তা। তিনি সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সরকারি বিধি অনুসারে দ্রুত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির বলেন, “আগের তুলনায় কাঁচপুর রাজস্ব সার্কেলে সেবার মান অনেক উন্নত হয়েছে। দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমে যাওয়ায় তারা এখন অপপ্রচার চালিয়ে কর্মকর্তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।”
একই ধরনের মন্তব্য করেন স্থানীয় শিক্ষক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “যারা নিয়ম মেনে কাজ করেন, তাদের বিরুদ্ধেই সাধারণত অসাধু চক্র সক্রিয় হয়। ইমরান হাসান নীতির সঙ্গে আপস করেননি বলেই একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। অপপ্রচারে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।”
এ বিষয়ে মোঃ ইমরান হাসান বলেন, “আমি সবসময় সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালন করে আসছি। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও জানান, অপপ্রচারে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি ও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা। তারা এ ধরনের অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত তথ্য যাচাই করে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Developed by : BDIX ROOT