আমাদের স্বাধীন দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁ:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় হোসেন আলী নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। সংঘর্ষের পর একটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও করেছে আহতের পরিবার।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বস্তল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত হোসেন আলীর পরিবারের সদস্যদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর পাশাপাশি পূর্বশত্রুতার জেরও ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে হোসেন আলীর ওপর হামলা চালায়।
পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা হোসেন আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
হামলার পর হোসেন আলীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও করেছে তার পরিবার। তাদের দাবি, এ সময় বাড়িতে থাকা নগদ প্রায় ১০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পরিবারের নারী সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণ ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বস্তল গ্রামের রোকন, মাসুদ, আব্দুল্লা আল মামুন ও তাদের বাবা জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে বহিরাগত ও ভাড়াটে লোকজন নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের কয়েকজনের হাতে রামদা, হকিস্টিক ও আগ্নেয়াস্ত্র সদৃশ বস্তু ছিল বলেও দাবি করেছেন তারা।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, হোসেন আলী স্থানীয়ভাবে বিএনপির যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পাশাপাশি মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধ ও দীর্ঘদিনের পূর্বশত্রুতাই হামলার মূল কারণ বলে তারা দাবি করেন।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে ফের সংঘর্ষের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রোকন, মাসুদ, আব্দুল্লা আল মামুন ও জামাল উদ্দিনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা, হামলায় কারা জড়িত এবং লুটপাটের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।